কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় [করণীয় ও ঔষধ]
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়: কোষ্ঠকাঠিন্য একটি প্রচলিত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এটি হঠাৎ করে নয়, ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে। অবহেলা করলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই শুরুতেই কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত। এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়, কারণ, লক্ষণ ও ঔষধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ
কোষ্ঠকাঠিন্যের পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। আঁশযুক্ত খাবার ও পর্যাপ্ত পানির অভাব এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়া অতিরিক্ত রাত জাগা, মানসিক চাপ, মাদকসেবন, অনিয়মিত ব্যায়াম, বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার ও অপুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসও এ সমস্যা বাড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে আইবিএস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, গর্ভাবস্থা এবং ক্যালসিয়াম বা আয়রন জাতীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ
কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শক্ত ও চাকার মতো মল, পায়খানা করতে কষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন পড়া। অনেক সময় পেট ফাঁপা, ব্যথা, বমি বমি ভাব ও অস্বস্তি দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে দুশ্চিন্তা ও অবসাদগ্রস্ততা তৈরি হতে পারে। কখনো কখনো মলের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে, যা অবহেলা না করে গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয়
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রথমেই এর কারণ বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল, বিশেষ করে পেয়ারা ও কলা রাখুন। তেল-মসলা, মাদক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন, রাত জাগা বন্ধ করুন এবং সময়মতো খাবার খাওয়া ও মলত্যাগ নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করুন।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঘরোয়া উপায়
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে এবং আঁশযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খেলে হজম ভালো থাকে। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করলে পেট পরিষ্কার হতে সাহায্য করে। রাতে ইসবগুলের ভুসি খাওয়াও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে উপকারী। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে হজম শক্তি বাড়ে এবং এই সমস্যা অনেকটাই কমে।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম
Avolac Syrup
খাওয়ার নিয়ম: এভোল্যাক সিরাপ, এরিস্টোফার্মা লিমিটেড উৎপাদিত একটি ল্যাকটুলোজ গ্রুপের ওষুধ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ৩-৬ চা চামচ, আর শিশুদের জন্য ১-৩ চা চামচ মাত্রায় সেবনযোগ্য। গর্ভাবস্থা ও স্তনদানকালীন সময়ে এটি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করতে হবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এভোল্যাক সিরাপ সাধারণত নিরাপদ এবং মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কমই দেখা যায়। তবে সেবনের পর কিছু ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, আন্ত্রিক খিঁচুনি বা হালকা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।
দাম: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার এই সিরাপের ১০০ মি.লি. দাম ১৭০ টাকা এবং ২০০ মি.লি. দাম ২৯০ টাকা। নিকটস্থ যেকোন ফার্মেসিতে সহজেই পাওয়া যায়।
একই গ্রুপের আরো কিছু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম নিচে দেওয়া হলো:
- Lactulose Syrup
- Osmolax Syrup
- Laclose Syrup
- Inolac Syrup
- Dlac Syrup
- Ezylax Syrup
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ল্যাকটুলোজ গ্রুপের সকল সিরাপ খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।
Ezyfeel Syrup
খাওয়ার নিয়ম: Ezyfeel ইউরো ফার্মা লিমিটেডের সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের একটি ল্যাক্সেটিভ, যা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য উপশমে কার্যকর। এটি সিরাপ ও ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায় এবং রাতে ঘুমের আগে সেবন করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০ বছরের বেশি শিশুদের জন্য দৈনিক ১–২ চা চামচ, ৪–১০ বছর বয়সে ½–১ চা চামচ এবং ৪ বছরের কম শিশুদের ক্ষেত্রে ০.২৫ মি.লি./কেজি ওজন অনুযায়ী সেবন করতে হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এই সিরাপ সেবনে কখনও কখনও মাথা ঘোরা, অতিসংবেদনশীলতা, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
দাম: Ezyfeel ৫০মিলি সিরাপ এর দাম ৮৫ টাকা এবং ১০০মিলি সিরাপ এর দাম ১৫০ টাকা মাত্র।
একই গ্রুপের আরো কিছু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সিরাপের নাম নিচে দেওয়া হলো:
- Dulcoflex Syrup
- Sopilax Syrup
- Picosul Syrup
- Abdolax Syrup
- Ezygo Syrup
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের সকল সিরাপ খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ট্যাবলেট এর নাম
Sopilax Tablet
খাওয়ার নিয়ম: সোপিলাক্স ট্যাবলেট Square Pharmaceuticals Ltd.-এর সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের ওষুধ, যা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ব্যবহৃত হয়। রাতে ঘুমের আগে সেবন করতে হয়—প্রাপ্তবয়স্কদের ১টি, ১০ বছরের কম বয়সে ½ ট্যাবলেট। গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা গেলেও প্রথম তিন মাস এড়ানো উচিত।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: সোপিলাক্স ট্যাবলেট সেবনে কখনও কখনও হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন অতিসংবেদনশীলতা, মাথা ঘোরা বা সাময়িক সংজ্ঞাহীনতা। এছাড়া ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া, পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাবও হতে পারে।
দাম:
এছাড়া আরো কিছু কার্যকরী কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ট্যাবলেট এর নাম নিচে দেওয়া হলো:
- Ezylife 10 Tablet
- Glysup Tablet
- Ezyfeel Tablet
- Laxavin Tablet
- Lubigut 8 Tablet
- Duralax Tablet
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সোডিয়াম পিকোসালফেট গ্রুপের সকল ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া একই।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার হোমিও ঔষধ
- Alumina 30
- Oplum 200
- Plumbum Met 200
FAQs
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কি বাচ্চার ক্ষতি হয়?
সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য হলে বাচ্চার ক্ষতি হয় না, তবে দীর্ঘদিন থাকলে মায়ের অস্বস্তি বাড়তে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সিভিট খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?
সাধারণত ভিটামিন সি জাতীয় সাপ্লিমেন্ট কোষ্ঠকাঠিন্য করে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে হজমে সহায়তা করতে পারে।
পেয়ারা খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?
পেয়ারায় প্রচুর আঁশ থাকে, তাই পরিমিত পরিমাণে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে।
রুটি খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?
পর্যাপ্ত পানি ও সবজি ছাড়া বেশি পরিমাণে রুটি খেলে কিছু মানুষের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
চিড়া খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়?
সাধারণত চিড়া সহজপাচ্য, তবে বেশি খেলে বা পানি কম পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
দুধ খেলে কি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়?
দুধ সবার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে না; কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি বরং কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতেও পারে।
