পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা [কার্যকর ঔষধসহ বিস্তারিত]

পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা: দীর্ঘস্থায়ী আমাশয় একটি জটিল শারীরিক সমস্যা, যা বারবার অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ডায়রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এতে মলের সঙ্গে রক্ত ও শ্লেষ্মা দেখা যায়, যা শরীরের ভেতরের সংক্রমণ বা অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের লক্ষণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, কারণ, করনীয়, এলোপ্যাথিক ঔষধ ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে পারবেন।

পুরাতন আমাশয়ের কারণ

দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়ের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ—যেমন শিগেলা, সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টর ও ইশেরিচিয়া কোলি অন্যতম। পরজীবী ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণও এ সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাছাড়া প্রদাহজনক অন্ত্রের রোগ (IBD), ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা কিংবা কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়ের কারণ হতে পারে।

আমাশয় রোগের লক্ষণ

আমাশয় রোগের প্রধান লক্ষণ হলো বারবার অল্প অল্প করে পায়খানা হওয়া, যেখানে মিউকাস বা রক্ত থাকতে পারে। এর সঙ্গে পেটে ব্যথা বা মোচড়, জ্বর, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা দেখা যায়। দীর্ঘদিন থাকলে পানিশূন্যতা ও শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

পুরাতন আমাশয় হলে করণীয়

দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়ে শরীরের পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও স্যুপ পান করা জরুরি। দই বা কেফিরের মতো প্রোবায়োটিক খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সহায়ক। মশলাদার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার যেমন কলা, সেদ্ধ আলু, সাদা ভাত ও টোস্ট খাওয়া উচিত। আদা, পিপারমিন্ট বা ক্যামোমাইলের মতো ভেষজ উপাদানও উপকারে আসতে পারে।

পুরাতন আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

পুরাতন আমাশয় হলে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ভাত, খিচুড়ি ও কলা খাওয়া ভালো। শরীরের পানি ঠিক রাখতে স্যালাইন (ORS) ও পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ইসবগুলের ভুসি ও বেল ফল পেটের সমস্যা কমাতে সহায়ক, আর দই অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়ায়। তবে দীর্ঘদিন রক্তপাত বা দুর্বলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পুরাতন আমাশয় রোগের এলোপ্যাথিক ঔষধের নাম

Zox 500 Mg Tablet

খাওয়ার নিয়ম: জক্স ট্যাবলেট একটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ, যা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বাজারজাত করে। এটি ট্যাবলেট ও সিরাপ—দুই ধরনের ফরমে পাওয়া যায়, তাই শিশুদের জন্যও উপযোগী। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর একটি ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই ওষুধ তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষত চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া।

দাম: জক্স প্রতিটি ট্যাবলেট এর মূল্য ১০ টাকা মাত্র।

ফ্লাজিল ট্যাবলেট

খাওয়ার নিয়ম: ফ্লাজিল ট্যাবলেট সাইনোভিয়া ফার্মা পিএলসি কর্তৃক উৎপাদিত একটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ। ১০ বছর বা ততোধিক বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুইবার একটি করে ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়, যা সাধারণত সাত দিন পর্যন্ত চলতে পারে। গর্ভাবস্থা বা স্তনদানকালীন এই ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দাম: ফ্লাজিল প্রতি পিস ট্যাবলেট এর মূল্য ১.৭ টাকা মাত্র।

আমাশয় রোগের এন্টিবায়োটিক

সাধারণভাবে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকগুলো হলো—

  • ব্যাকটেরিয়াল আমাশয়ে: Azithromycin, Ciprofloxacin
  • অ্যামিবিক আমাশয়ে: Metronidazole, Tinidazole

সতর্কতা: নিজের ইচ্ছামতো এন্টিবায়োটিক খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল ওষুধে রোগ বাড়তে পারে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই সঠিক পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নেওয়াই নিরাপদ।

আমাশয় রোগীর খাবার তালিকা

দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়ে শরীরের পুষ্টি ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশুদ্ধ পানি, চিনির সরবত, ফলের রস, দই, পাকা কলা, সাদা ভাত, আলু ভর্তা, মুরগির ঝোল ও ওটমিল উপকারী। আপেল, কমলা, ডালিম, আঙ্গুর, গাজর, বীট, মাশরুম ও লেবুর রসও খাওয়া যেতে পারে। টিনজাত ফল এড়ানো ভালো।

FAQs

পুরাতন আমাশয় কেন হয়?

পুরাতন আমাশয় সাধারণত অন্ত্রের সংক্রমণ, প্রদাহ বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের কারণে হয়।

পুরাতন আমাশয় কি ভালো হয়?

পুরাতন আমাশয় সাধারণত নিজে থেকে ভালো হয় না, চিকিৎসা প্রয়োজন।

আমাশয় রোগের জীবাণুর নাম কি?

আমাশয় রোগ মূলত ব্যাকটেরিয়াল আমাশয় ও অ্যামিবিক আমাশয় এই দুই ধরনের জীবাণুর কারণে হয়।

আমাশয় কত দিনে ভালো হয়?

সাধারণত ৩–৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়, তবে দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসা দরকার।

বাচ্চাদের আমাশয় কেন হয়?

অপরিষ্কার খাবার, পানি ও হাতের মাধ্যমে সংক্রমণ হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *