বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঔষধের নাম [খাওয়ার নিয়ম ও দাম]

বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঔষধের নাম: শিশুদের মধ্যে আমাশয় একটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ রোগ। সাধারণত এ রোগে প্রাণঘাতী ঝুঁকি থাকে না। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এ সমস্যা অব্যাহত থাকলে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মলে রক্ত দেখা দেয়, যাকে রক্ত আমাশয় বলা হয়। বেশিরভাগ সময় শিশুদের আমাশয় এক সপ্তাহের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে সেরে যায় এবং এর জন্য বিশেষ কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না।

বাচ্চাদের আমাশয় রোগের কারণ

আমাশয়ের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সংক্রমিত খাবার গ্রহণ এবং দূষিত পানি পান করা। নোংরা অবস্থায় হাত না ধোয়া কিংবা আমাশয় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমেও এ রোগ ছড়াতে পারে। এছাড়াও দুর্বল স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি না মানা থেকেও এ রোগ ছড়ায়। অপুষ্টি ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার শিশু এ রোগে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এছাড়া জীবজন্তু বা তাদের মলের সংস্পর্শও আমাশয়ের কারণ হতে পারে।

বাচ্চাদের আমাশয়ের লক্ষণ

শিশুদের আমাশয়ের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পেটে ব্যথা, ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়া কিন্তু সম্পূর্ণ মলত্যাগ না হওয়া, রক্তসহ পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব ও বমি। এছাড়া ক্ষুধা হ্রাস, জ্বর, পানিশূন্যতা, ক্লান্তি এবং ধীরে ধীরে ওজন হ্রাসও দেখা দিতে পারে।

বাচ্চাদের আমাশয় হলে করণীয়

শিশুর আমাশয় হলে তাকে ওরস্যালাইনসহ পর্যাপ্ত তরল খাবার যেমন চিনির শরবত, ডাবের পানি বা ফলের রস খাওয়ানো জরুরি ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়াতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে। বিশুদ্ধ পানি পান করানো, বাইরের খাবার এড়ানো ও মলত্যাগের পর হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো জরুরি। অবস্থা গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনে ওষুধ দিতে হবে।

বাচ্চাদের আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

বাচ্চাদের আমাশয় হলে ঘরোয়া চিকিৎসায় বারবার ORS, ভাতের মাড় ও নারকেলের পানি খাওয়াতে হবে। পাকা কলা, দই ও নরম ভাত দিলে দ্রুত ভালো হয়। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি, আর অবস্থা খারাপ হলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়াবেন?

বাচ্চাদের আমাশয় হলে শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ করা সবচেয়ে জরুরি, তাই বারবার অল্প অল্প করে ORS (খাওয়ার স্যালাইন), ভাতের মাড় ও নারকেলের পানি খাওয়াতে হবে। সাথে নরম ভাত, ডাল, পাকা কলা, দই ও হালকা খাবার দেওয়া ভালো। এ সময় তেল-ঝাল, ফাস্টফুড ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। যদি জ্বর, রক্তযুক্ত পায়খানা বা বাচ্চা খুব দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

বাচ্চাদের আমাশয় ঔষধ নাম

ফিলমেট সিরাপ (Filmet Syrup)

খাওয়ার নিয়ম: এক বছরের কম শিশুদের আধা চা চামচ, ১–৩ বছরের শিশুদের এক চা চামচ, ৩–৭ বছরের শিশুদের ১–২ চা চামচ এবং ৭–১২ বছরের শিশুদের দুই চা চামচ সিরাপ দিতে হবে। এটি দিনে তিনবার ভরা পেটে খাওয়াতে হবে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।

দাম: ফিলমেট ৬০ মিলি সিরাপ (সাসপেনশন) এর দাম  ৩৫ টাকা মাত্র।

জক্স সিরাপ (Zox Syrup) (এন্টিবায়োটিক)

খাওয়ার নিয়ম: এটি শিশুদের আমাশয়ের অ্যান্টিবায়োটিক, সাসপেনশন আকারে পাওয়া যায়। ২০ মিলি ফুটানো ঠান্ডা পানি মিশিয়ে সিরাপ তৈরি করে প্রতিবার খাওয়ানোর আগে ঝাঁকাতে হবে। ১–৩ বছরের শিশুদের এক চা চামচ, ৪–১১ বছরের শিশুদের দুই চা চামচ করে দিনে দুইবার দিতে হবে। তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা যাবে না এবং মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

দাম: জক্স ৩০ মিলি সিরাপ (সাসপেনশন) এর দাম ৪০ টাকা মাত্র। এটি স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড কোম্পানিতে একটি সিরাপ।

এছাড়াও আরো কিছু বাচ্চাদের আমাশয় রোগের সিরাপ ঔষধের নাম ও দাম হলো:

  1. Amodis Syrup
  2. Ciprocin 250 Syrup (Antibiotic)

FAQs

বাচ্চাদের আমাশয় হলে কি খাওয়া উচিত নয়?

বাচ্চাদের আমাশয় হলে বাইরের খাবার, তেল-ঝাল, ভাজাপোড়া ও দূষিত খাবার খাওয়ানো উচিত নয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *