মেট্রোনিডাজল কিসের ওষুধ [কাজ কি, নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া]

মেট্রোনিডাজল কিসের ওষুধ: মেট্রোনিডাজল একটি জেনারিক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। বিভিন্ন কোম্পানি এটি ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ড নামে বাজারজাত করে এবং ট্যাবলেট ও সিরাপ আকারে পাওয়া যায়। সংক্রমণজনিত নানা সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই ওষুধটি ট্যাবলেট ও সিরাপ আকারে বাজারে পাওয়া যায়। এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে মেট্রোনিডাজল কিসের ওষুধ, কাজ কি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

মেট্রোনিডাজল এর কাজ কি?

মেট্রোনিডাজল একটি কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক, যা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। নিউমোনিয়া, আমাশয় ও পেপটিক আলসারের মতো সমস্যায় এটি উপকারী ভূমিকা রাখে। এছাড়া হাড়-জয়েন্ট ও দাঁতের তীব্র সংক্রমণ, পায়ের ক্ষত, মস্তিষ্ক ও লিভারের অ্যাবসেসের চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়। নারীদের অতিরিক্ত সাদাস্রাব ও জরায়ুর প্রদাহসহ শরীরের অভ্যন্তরীণ নানা ইনফেকশনে এটি কার্যকরভাবে কাজ করে।

মেট্রোনিডাজল কিসের ওষুধ?

এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ, যা শরীরে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করে। বিশেষ করে আমাশয়, ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানার মতো পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণে এটি প্রায়ই ব্যবহৃত হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য সংক্রমণজনিত সমস্যাতেও এর প্রয়োগ হতে পারে।

মেট্রোনিডাজল খাওয়ার নিয়ম

এই ট্যাবলেটটি বিভিন্ন সংক্রমণজনিত রোগে ব্যবহৃত হয় এবং রোগভেদে এর মাত্রা ও সেবনবিধি ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ৩–৭ দিন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে সঠিক নিয়ম জানতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ভুলভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি গ্রহণ করা উচিত নয়।

মেট্রোনিডাজল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ হওয়ায় এর কিছু সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেবনের পর কারো কারো ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, বমি বা বমি বমি ভাব অনুভূত হতে পারে। এছাড়া ঘুম ঘুম ভাব, ত্বকে র‍্যাশ বা অ্যালার্জির লক্ষণ এবং মুখে ধাতব স্বাদ পাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা যেতে পারে। এসব উপসর্গ তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মেট্রোনিডাজল এর উপকারিতা

মেট্রোনিডাজল একটি কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ওষুধ, যা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি আমাশয়, সংক্রমণজনিত ডায়রিয়া, দাঁতের ইনফেকশন ও পেটের ভেতরের প্রদাহে উপকারী ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি লিভার অ্যাবসেস ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে।

মেট্রোনিডাজল গ্রুপের কিছু ঔষধের নাম

  1. Metco
  2. Flamyd
  3. Varizil
  4. Amodis
  5. Filmet
  6. Metryl
  7. Metro
  8. Dirozyl

FAQs

মেট্রোনিডাজল ৪০০ এর দাম কত?

মেট্রোনিডাজল ৪০০ ট্যাবলেটের দাম ব্র্যান্ডভেদে ভিন্ন, সাধারণত প্রতি ট্যাবলেট প্রায় ২–৫ টাকা।

মেট্রোনিডাজল কি এন্টিবায়োটিক?

হ্যাঁ, মেট্রোনিডাজল একটি অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ওষুধ।

মেট্রোনিডাজল কি পাতলা পায়খানার ঔষধ?

মেট্রোনিডাজল সরাসরি পাতলা পায়খানার ওষুধ নয়, তবে সংক্রমণজনিত ডায়রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

গর্ভাবস্থায় মেট্রোনিডাজল খাওয়া যাবে কি?

গর্ভাবস্থায় মেট্রোনিডাজল চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি এন্টিবায়োটিক ওষুধ। গর্ভাবস্থায় এটি খেলে গর্ভের ভ্রুণ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেবন করতে হবে।

মেট্রোনিডাজল কি খালি পেটে খাওয়া যায়?

না, এই ট্যাবলেট খাওয়ার পরে ভরা পেটে খেতে হবে। কারণ এটি এন্টিবায়োটিক ঔষধ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *