স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম [লক্ষণ ও উপায়]

স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম: স্ক্যাবিস একটি সংক্রামক ত্বকের রোগ, যা Sarcoptes scabiei নামের ক্ষুদ্র জীবাণুর কারণে হয়। এতে ত্বকে ছোট ছোট দানা বা ফোসকা ওঠে এবং চুলকানি হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এটি সহজে ছড়াতে পারে। এই আর্টিকেলটিতে স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম, লক্ষ্মণ, দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

স্ক্যাবিস হওয়ার কারণ

স্ক্যাবিস মূলত Sarcoptes scabiei নামের ক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে এই জীবাণু সহজে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়, তোয়ালে বা বিছানা ব্যবহার করলেও স্ক্যাবিস হতে পারে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও একসাথে বেশি লোক বসবাস করলেও এই রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে।

স্ক্যাবিস রোগের লক্ষণ

স্ক্যাবিস হলে সাধারণত শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দানা বা ফোসকা দেখা যায় এবং তীব্র চুলকানি অনুভূত হয়, যা রাতে বেশি বাড়ে। আঙুলের ফাঁক, কবজি, বগল, কোমর ও পেটের আশেপাশে দানা বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে এবং কখনও কখনও ছোট ঘা বা সংক্রমণও হতে পারে।

স্ক্যাবিস দূর করার ঘরোয়া উপায়

স্ক্যাবিস হলে শরীর পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করা, কাপড় ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো উচিত। আক্রান্ত স্থান চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিমপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করলে চুলকানি কিছুটা কমতে পারে।

স্ক্যাবিস থেকে মুক্তির উপায়

স্ক্যাবিস থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করে শরীর পরিষ্কার রাখতে হবে। ব্যবহৃত কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদর গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে। আক্রান্ত স্থান চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে যাতে রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে।

স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম

  • Permethrin 5% Cream
  • Ivermectin Tablet
  • Benzyl Benzoate Lotion
  • Sulfur Ointment
  • Crotamiton Cream

বি:দ্র: এসব ঔষধ সাধারণত স্ক্যাবিসের জীবাণু নষ্ট করে এবং চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।

স্ক্যাবিস এর লোশন

স্ক্যাবিস হলে সাধারণত ত্বকে লাগানোর জন্য কিছু লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়। যেমন Permethrin 5% Cream, Benzyl Benzoate Lotion, Crotamiton Lotion এবং Sulfur Ointment। এগুলো ত্বকে থাকা স্ক্যাবিসের জীবাণু নষ্ট করতে সাহায্য করে এবং চুলকানি কমায়। সাধারণত রাতে শরীরে লাগিয়ে কিছু সময় রেখে পরে ধুয়ে ফেলতে হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা ভালো।

FAQs

স্ক্যাবিস হলে কি কি খাওয়া যাবে না?

স্ক্যাবিস হলে নির্দিষ্ট কোনো খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। তবে বেশি মসলা, ঝাল খাবার, তেলযুক্ত খাবার ও অ্যালার্জি বাড়ায় এমন খাবার কম খাওয়া ভালো, কারণ এগুলো অনেক সময় চুলকানি বাড়াতে পারে। পরিষ্কার খাবার খাওয়া এবং বেশি পানি পান করা উপকারী।

স্ক্যাবিস কেন হয়?

স্ক্যাবিস Sarcoptes scabiei নামের ক্ষুদ্র পরজীবী জীবাণুর কারণে হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে বা তার কাপড়-বিছানা ব্যবহার করলে এই রোগ ছড়ায়।

স্ক্যাবিস কি ছোঁয়াছে রোগ?

হ্যাঁ, এটি সংক্রামক এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়ায়।

স্ক্যাবিস কত দিনে ছড়ায়?

সাধারণত সংস্পর্শের ২৪–৪৮ ঘন্টার মধ্যে ছড়াতে পারে।

স্ক্যাবিসের চুলকানি কবে বেশি হয়?

রাতে চুলকানি সবচেয়ে বেশি হয়।

স্ক্যাবিস কখন সেরে যায়?

সঠিক চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা দিলে সাধারণত ১–২ সপ্তাহে ভালো হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *