ঠান্ডার ওষুধের নাম কি [বড়দের ও বাচ্চাদের]
ঠান্ডার ওষুধের নাম কি: সাধারণ সর্দি-কাশি একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা নাক ও গলাসহ উপরের শ্বাসনালীকে আক্রান্ত করে। রাইনোভাইরাসই এর প্রধান কারণ। সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির ফোঁটা শ্বাসের সঙ্গে প্রবেশ করলে বা দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে ঢুকলে সর্দি-কাশি দেখা দেয়। এই আর্টিকেলটিতে আমরা ঠান্ডার ওষুধের নাম বড়দের ও বাচ্চাদের, ঠান্ডা লাগার কারণ, করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
ঠান্ডা লাগার কারণ
দুর্বল ইমিউন সিস্টেম শরীরকে সংক্রমণের জন্য বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। ঋতু পরিবর্তন, ঠান্ডা আবহাওয়া ও স্ট্রেস প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ধূমপান শ্বাসযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে ভাইরাস সহজেই শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ইনফ্লুয়েঞ্জা দ্রুত ছড়ায়, আর অ্যালার্জি থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ঠান্ডা লাগলে করণীয়
ঠান্ডা লাগলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ সেবন করুন। গরম লবণ পানি দিয়ে গড়গড় করুন ও মুরগির স্যুপ খান। ধোঁয়া, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখুন এবং মধু খান। ঘন ঘন হাত ধুয়ে পরিষ্কার থাকুন, কমলালেবু ও স্ট্রবেরির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।
ঠান্ডার ঔষধের নাম কি
ডেক্সোটিক্স ট্যাবলেট
কার্যকারিতা: এটি শুষ্ক সর্দি ও কাশির জন্য কার্যকর ট্যাবলেট। বুকে কফ জমে থাকলেও উপকার দেয়। এটি তৈরি করেছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
খাওয়ার নিয়ম: ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর একটি বা দুটি ট্যাবলেট সেবন করতে পারেন। দিনে চারটির বেশি ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না। সেবনের পর হালকা বমি বমি ভাব হতে পারে, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ট্যাবলেট অবশ্যই গিলে খেতে হবে, চুষে বা গুঁড়ো করে নয়। গর্ভবতী ও স্তনদানকারী মায়েদের সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
দাম: প্রতি পিস ডেক্সোটিক্স ট্যাবলেটের মূল্য মাত্র ১০ টাকা এবং পাতার দাম মাত্র ৪০ টাকা।
ফেক্সো ১২০ ট্যাবলেট
কার্যকারিতা: এটি হাঁচি, সর্দি ও কাশির উপশমে কার্যকর একটি ট্যাবলেট, যা তৈরি করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। শুষ্ক, খুসখুসে বা কফযুক্ত সব ধরনের কাশির জন্য এটি উপযোগী। সর্দি, গলা ব্যথা, অ্যালার্জি ও চুলকানিতেও এটি উপকার দেয়।
খাওয়ার নিয়ম: ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন একটি করে ট্যাবলেট সেবন করতে পারেন। এটি খাবার পর ভরা পেটে গ্রহণ করা উত্তম। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফেক্সো ১৮০ ট্যাবলেটও উপলব্ধ, যা গুরুতর উপসর্গে সেবন করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থা ও স্তনদানকালীন সময়ে এই ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাম: ফেক্সো ১২০ ট্যাবলেট প্রতি পিস এর দাম ৮ টাকা মাত্র।
এছাড়া আরো কিছু ঠান্ডার ঔষধের নাম নিচে দেওয়া হলো:
- নাপা ট্যাবলেট
- কার্টন ট্যাবলেট
- আলসেট ট্যাবলেট
- ডক্সিক্যাপ ১০০ ট্যাবলেট
- ইবাস্টেন ট্যাবলেট
- ডেসলর ট্যাবলেট
- হিস্টালেক ট্যাবলেট
- হিস্টালেক্স ট্যাবলেট
- এডোভাস সিরাপ
- রেকোমকফ সিরাপ
- তুসকা সিরাপ
- টোফেন সিরাপ
বাচ্চাদের ঠান্ডার সিরাপ
এডোভাস সিরাপ
কাদের জন্য: এটি সকল প্রকার ঠান্ডা ও কাশির উপশমে অত্যন্ত কার্যকর একটি ওষুধ। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই এটি সেবন করতে পারেন। এমনকি নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রেও এটি নিরাপদভাবে গ্রহণযোগ্য।
খাওয়ার নিয়ম: ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দিনে দুই থেকে তিনবার এক থেকে দুই চা চামচ করে সেবন করানো উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতি বার তিন চা চামচ করে দিনে দুই থেকে তিনবার সেবন করা যায়। এটি খাবার পর ভরা পেটে গ্রহণ করতে হয়। সেবনের মাত্রা সামান্য কমবেশি হলেও সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এটি হারবাল পদ্ধতিতে তৈরি তাই কোন ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।
দাম: স্কয়ার কোম্পানির এই সিরাপটি ১০০ মিলি ৭০ টাকায় পাওয়া যায়।
এছাড়াও আরো কার্যকরী ঠান্ডার সিরাপ ঔষধের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো:
- ফেক্সো সিরাপ
- রেকোমকফ সিরাপ
- টোফেন সিরাপ
- তুসকা সিরাপ
FAQs
অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে কি ওষুধ খাওয়া উচিত?
অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে সাধারণত অ্যান্টিহিস্টামিন, প্যারাসিটামল (জ্বর বা ব্যথা থাকলে) এবং প্রয়োজনে নাক বন্ধের জন্য ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার করা হয়। তবে উপসর্গ অনুযায়ী সঠিক ওষুধ নির্ধারণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
