টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না [ঔষধের নামসহ বিস্তারিত]
টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না: গলা ব্যথা হলেই আমরা অনেক সময় মনে করি টনসিলের সমস্যা হয়েছে। টনসিল শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে। এতে প্রদাহ হলে তাকে টনসিলাইটিস বলা হয়, যা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সাধারণত ঘরোয়া কিছু সহজ চিকিৎসায় এটি ভালো হয়ে যায় এবং চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়ে না। এই আর্টিকেলটিতে আমরা টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না, কারণ, লক্ষণ, ঔষধ এর নাম, খাওয়ার নিয়ম ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো।
টনসিল এর কারণ কি?
আমাদের গলায় বিভিন্ন কারণে টনসিলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ—বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস—এর অন্যতম কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ, শীতল পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা শীত মৌসুমে সঠিকভাবে সতর্ক না হলে টনসিল আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
টনসিল এর লক্ষণ গুলো কি কি?
টনসিলের সংক্রমণে শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনকে ভীষণভাবে ব্যাহত করে। গলায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয় এবং গলা আগের তুলনায় ফুলে যেতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথাব্যথা হতে পারে। খাবার গিলতে কষ্ট হয়, কানে ব্যথা ছড়ায় এবং মুখ থেকে দুর্গন্ধ বা অতিরিক্ত লালা বের হয়। কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয়।
টনসিল হলে করণীয়
টনসিলের ব্যথা কমাতে লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে গার্গল এবং প্রচুর উষ্ণ পানি পান করা উপকারী। গরম আদা চা-ও উপশমে সাহায্য করে। নরম কাপড় গরম করে গলায় ছ্যাক দিলে ব্যথা কমে এবং কয়েকদিন নিয়মিত করলে ভালো ফল মেলে। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না?
টনসিল হলে কিছু খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এসব খাবার গলা আরও সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক করে তুলতে পারে। যেমন:
- ঠান্ডা পানীয় ও আইসক্রিম
- খট্টা ফল ও লেবুজাতীয় খাবার
- বেশি মসলা ও ঝালযুক্ত খাবার
- শক্ত, খসখসে বা চিবাতে কষ্ট হয় এমন খাবার (যেমন চিপস, টোস্ট)
- ঠান্ডা দুধ ও দই
এই সময় গলা শান্ত রাখে এমন নরম, গরম ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই সবচেয়ে উপযোগী।
টনসিলের এন্টিবায়োটিক ঔষধ
- ভিফাস ট্যাবলেট (প্রতি পিস ৮ টাকা)
- ডেক্সিলেন্ড ৩০ ক্যাপসুল (প্রতি পিস ৯ টাকা)
- রফিউক্লাভ ২৫০ ট্যাবলেট (প্রতি পিস ৫৫ টাকা)
- এইচ্ এক্সআর ট্যাবলেট (প্রতি পিস ২ টাকা)
- Viodin Mouth Wash (প্রতিটি সিরাপ ১০০ মিলি ৪০ টাকা)
ওষুধগুলো খাওয়ার নিয়ম
ভিফাস ট্যাবলেট: এই ট্যাবলেট প্রতিদিন রাতে একটি করে খাবারের পর ভরা পেটে খেতে হয়।
ডেক্সিলেন্ট ৩০ ক্যাপসুল: এই গ্যাসের ক্যাপসুল প্রতিদিন একটি করে সেবন করা যায়। তবে গ্যাসের সমস্যা বেশি হলে দিনে দুইবার—সকাল ও রাতে—গ্রহণ করা যেতে পারে। ওষুধটি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। খাওয়ার আগে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পূর্বে সেবন করলে এটি সর্বোত্তমভাবে কাজ করে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
রফিউক্লাভ ২৫০ ট্যাবলেট: এটি টনসিলের জন্য একটি অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট, যা একটানা ৭ দিন সকাল ও রাতে ১টি করে খেতে হয়। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য ওষুধও নিতে হবে।
এইচ্ এক্সআর ট্যাবলেট: যদি টনসিলে ব্যথা থাকে, তবে এই ঔষধটি দিনে তিনবার—সকাল, বিকাল ও রাতে একটি করে সেবন করতে হবে। তবে ব্যথা না থাকলে খাওয়া যাবে না।
Viodin Mouth Wash(ভায়োডিন মাউথওয়াশ): ভায়োডিন মাউথওয়াশ দিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলি করতে হবে। এক গ্লাস গরম পানিতে ৩-৪ ফোঁটা মাউথওয়াশ মিশিয়ে তা দিয়ে ভালোভাবে কুলি করতে হবে। মুখ ও গলার জীবাণু দূর করতে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত সব ওষুধ একসাথে নির্ধারিত ডোজ অনুযায়ী সেবন করতে হবে। শুধু মাউথওয়াশ সেবন করা যাবে না। আলাদা করে খেলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
বিশেষ সতর্কীকরণ: ঔষধগুলো অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করবেন।
FAQs
টনসিল হলে লেবু খাওয়া যাবে?
টনসিল হলে অতিরিক্ত লেবু না খাওয়া ভালো।
টনসিল হলে কি দুধ খাওয়া যাবে?
টনসিল হলে ঠান্ডা দুধ না খেয়ে গরম বা কুসুম গরম দুধ খাওয়া যেতে পারে।
টনসিল থেকে কি ক্যান্সার হয়?
দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল টনসিলের সমস্যা থেকে খুব বিরল ক্ষেত্রে টনসিল ক্যান্সার হতে পারে।
টনসিল হলে কি কলা খাওয়া যাবে?
টনসিল হলে ঠান্ডা বা কাঁচা কলা না খাওয়াই ভালো।
