জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা [নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দাম]
জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা: জিংক বা দস্তা আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা এনজাইম কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় সাহায্য করে। এটি রোগপ্রতিরোধ, ক্ষত সারানো ও কোষ গঠনে ভূমিকা রাখে। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা, এর অভাবে কি হয়, জিংক ট্যাবলেট এর কাজ করি, খাওয়ার নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও দাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
জিংক ২০ ট্যাবলেট এর উপকারিতা
জিংকের অভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ত্বকের সমস্যা, ক্ষত সারে না, মনোযোগ ও প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়। জিংক ২০ ট্যাবলেট নিয়মিত সেবনে ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়, ব্রণ ও একজিমা কমে, ত্বক উজ্জ্বল হয়, ক্ষত দ্রুত সারে এবং মানসিক অবসাদ দূর হয়। এটি ডায়রিয়া প্রতিরোধ, ক্ষুধামন্দা ও চুল পড়া রোধেও কার্যকর। তবে অতিরিক্ত সেবন ক্ষতিকর হতে পারে, তাই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করা উচিত।
জিংক এর অভাবে কি হয়?
জিংকের অভাব গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শিশুর জন্মগত ত্রুটি, কম ওজনে জন্ম এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জিংকের ঘাটতিতে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মুখে ঘা, ব্রণ, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ ও একজিমা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও মানসিক দুর্বলতা, মনোযোগহীনতা, বিষণ্নতা ও আচরণগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
শরীরে কেন জিংকের অভাব হয়?
মানবদেহে জিংকের ঘাটতি বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা এ অভাবের অন্যতম কারণ। এছাড়াও অতিরিক্ত মদ্যপান শরীর থেকে জিংক নিঃসরণ বাড়িয়ে দিয়ে ঘাটতি তৈরি করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে জিংকের ঘাটতি রোধে যথাযথ চিকিৎসা ও পুষ্টিগত সচেতনতা জরুরি।
জিংক 20 ট্যাবলেট এর কাজ কি?
জিঙ্ক ২০ ট্যাবলেট শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল সাপ্লিমেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি বা সংক্রমণ থেকে দ্রুত সুস্থ হতে সহায়তা করে। শিশুদের ডায়রিয়ায় উপকারী এবং অন্ত্রের সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্ষত দ্রুত শুকানো, ব্রণ কমানো ও ক্ষুধামান্দ্য দূর করতেও কার্যকর। তবে সঠিক ডোজে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা উচিত।
জিংক ২০ ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জিংক ২০ ট্যাবলেট সকাল ও রাতে একটি করে খাওয়া উচিত। খাবারের আগে খেতে হলে এক ঘণ্টা আগে এবং পরে খেতে হলে দুই ঘণ্টা পর সেবন করতে হয়। সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও অতিরিক্ত সেবনে বমি, ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা হতে পারে।
জিংক ২০ ট্যাবলেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
জিঙ্ক ২০ ট্যাবলেট সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন সেবনে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা মুখে ধাতব স্বাদ হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় নিলে কপারের ঘাটতি ও রক্তশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই নির্ধারিত ডোজে ও চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করা উচিত।
FAQs
জিংক ২০ ট্যাবলেট এর দাম কত?
প্রতি পিস জিংক ২০ ট্যাবলেট এর দাম ৩ টাকা ৫০ পয়সা মাত্র।
জিংক ২০ কিসের ঔষধ
জিংক ২০ একটি সাপ্লিমেন্ট যা দেহে জিংকের ঘাটতি পূরণে ব্যবহৃত হয়।
জিংক 20 ট্যাবলেট কতদিন খেতে হয়?
জিঙ্ক ২০ ট্যাবলেট সাধারণত ১০–১৪ দিন সেবন করা হয় (বিশেষ করে ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে)। তবে আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেবনের সময়কাল চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
