বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা ও দাম [খাওয়ার নিয়মসহ বিস্তারিত]
বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নাম: শিশুদেরও পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে, তবে তারা তা বলতে না পারায় কান্না, মোচড়ানো বা পা ভাঁজ করার মাধ্যমে প্রকাশ করে। অনেক সময় চেহারা লাল হয়ে যায় বা হাত মুঠো করে রাখে। গ্যাসের কারণে এই অস্বস্তি দেখা দেয়, যা অভিভাবককে লক্ষণ দেখে বুঝতে হয়। বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নাম, দাম ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
বাচ্চাদের গ্যাস কেন হয়?
বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। শিশুকালে পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি উন্নত না হওয়ায় হজমে সমস্যা দেখা দেয়। দ্রুত বা খুব ধীরে খাওয়া, অতিরিক্ত দুধ বা কম পানি পান, গ্যাস সৃষ্টি করে এমন খাবার (যেমন: বাঁধাকপি, ব্রকলি), জুস পান, অতিরিক্ত কান্না এবং মায়ের খাবারের প্রভাবও শিশুর গ্যাসের কারণ হতে পারে।
বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে করনীয়
বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যা হলে কিছু সহজ যত্নেই অনেক সময় আরাম পাওয়া যায়। দুধ খাওয়ানোর পর বাচ্চাকে কাঁধে তুলে হালকা চাপ দিয়ে ঢেঁকুর তুলিয়ে নিন, এতে পেটে জমে থাকা বাতাস বের হয়ে যায়। হালকা গরম তেল দিয়ে পেটের ওপর আস্তে করে ম্যাসাজ করলে আরাম পায়। খাওয়ানোর সময় বাচ্চার মাথা একটু উঁচু রাখুন এবং বেশি কাঁদলে বা পেট ফুলে থাকলে খেয়াল রাখুন। এসবের পরও সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাচ্চাদের গ্যাসের সিরাপ
ফ্লাকোল ড্রপ সিরাপ
খাওয়ানোর নিয়ম: ফ্লাকোল স্কয়ার কোম্পানির তৈরি শিশুদের গ্যাসের ড্রপ, যার কার্যকর উপাদান সিমেথিকন। এটি সাধারণত নিরাপদ, তবে খুব কম ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা হতে পারে। দুই বছরের কম বয়সীদের জন্য ২০ মি.গ্রা. (০.৩ মি.লি.) এবং দুই থেকে বারো বছরের শিশুদের জন্য ৪০ মি.গ্রা. (০.৬ মি.লি.) দিনে চারবার করে খাওয়াতে হয়। বড়দের জন্য ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়।
দাম: ফ্লাকোল ড্রপ সিরাপ ১৫ মিলি এর দাম ৩৫.১১ টাকা মাত্র।
ফ্যামোট্যাক সিরাপ
খাওয়ানোর নিয়ম: ফ্যামোট্যাক স্কয়ার কোম্পানির তৈরি শিশুদের গ্যাসের সিরাপ, যার উপাদান ফ্যামোটিডিন। এটি একবার খাওয়ালে প্রায় ১২ ঘণ্টা কার্যকর থাকে এবং কিছুদিন সেবনে গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি মেলে। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী ০.৫ মি.গ্রা. করে দিনে একবার, খাবারের আগে খাওয়ানো উত্তম। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
দাম: এই সিরাপটির মূল্য ৫০ টাকা মাত্র।
এছাড়াও আরো কয়েকটি বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যায় ব্যবহৃত ঔষধের নাম:
বাচ্চাদের গ্যাসের সমস্যায় সাধারণত Simethicone যুক্ত সিরাপ/ড্রপ সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন-
- Simethi Drops
- Gasnil Drops
- Flatulex Drops
- Espumisan Drops
বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধের নামের তালিকা ও দাম
- Neodrop Beximco Company (30 TK)
- Simet ACI Company (30 TK)
- Lefoam Incepta Company (30 TK)
- Gasnil Eskayef Company (30 TK)
- Simethi Zenith Company (30 TK)
- Pedicon Orion Company (30 TK)
- Naunehal Harbal Company (75 TK)
- Flatunil Acme Company (35 TK)
- Semecon Drug Company (46 TK)
FAQs
বাচ্চাদের গ্যাসের ঔষধ কোনটা ভালো?
বাচ্চাদের গ্যাসের জন্য সাধারণত Simethicone ড্রপ (যেমন Simethi, Gasnil) সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ। তবে বাচ্চাকে দেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাচ্চাদের গ্যাসের সবচেয়ে ভালো সিরাপ কোনটি?
বাচ্চাদের গ্যাসের জন্য সবচেয়ে ভালো সিরাপ হলো Simethicone যুক্ত ড্রপ (যেমন Simethi, Gasnil)—এগুলো দ্রুত গ্যাস কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২ বছরের বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে করণীয়?
হালকা গরম তেল দিয়ে পেট ম্যাসাজ, ঢেঁকুর তোলানো এবং সহজপাচ্য খাবার দিন; সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
৩ বছরের বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে করণীয়?
ফেনাযুক্ত/গ্যাস তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন, পানি বেশি দিন এবং হালকা ম্যাসাজ করুন; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৫ বছরের বাচ্চাদের পেটে গ্যাস হলে করণীয়?
সুষম খাবার, বেশি পানি ও হালকা হাঁটা উপকারী; গ্যাস বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।
