হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয়

হেলফিট ট্যাবলেট এর কাজ কি (নিয়ম, অপকারিতা, দাম)

হেলফিট ট্যাবলেট এর কাজ কি: হেলফিট ট্যাবলেট বোটানি ল্যাবরেটরীজ ইউনানী কোম্পানির একটি ইউনানী ওষুধ যা মূলত রুচিবর্ধক ও হজমকারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ক্ষুধা বাড়ায়, পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

অনেকেই এই ওষুধকে স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করে থাকেন। তবে হেলফিট ট্যাবলেট এর কাজ কি ও হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হেলফিট ট্যাবলেট এর কাজ কি?

এই ট্যাবলেট গ্রহণের ফলে বিভিন্ন ধরনের উপকারিতা পাওয়া যায়। হেলফিট ট্যাবলেট সাধারণত স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, ফলে খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যারা দীর্ঘদিন ধরে রুচিহীনতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি মুখের রুচি বৃদ্ধি করতে কার্যকর।

এছাড়া এটি পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করে। এটি বদহজম দূর করে এবং পেট ফাঁপা সমস্যা কমায়, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্যও এটি উপকারী হতে পারে। কারণ এটি দেহে পুষ্টি সরবরাহ করে এবং রক্তের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে থাকে।

হেলফিট খেলে কি ক্ষতি হয়?

যদিও হেলফিট একটি ইউনানী ওষুধ, তবে এর কিছু সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।

  • কিডনির ক্ষতি: দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত সেবন করলে কিডনি বিকল হতে পারে।
  • ফুসফুসের ক্ষতি: ফুসফুসে পানি জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • ত্বকের সমস্যা: মুখে ব্রণ এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে।
  • শরীরে পানি জমে যাওয়া: শরীরে অতিরিক্ত পানি জমার ফলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।

হেলফিট ট্যাবলেট এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

হেলফিট ট্যাবলেট সেবনে বেশ কিছু মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি শরীরে পানি জমার প্রবণতা বাড়ায়, মুখে ব্রণ ওঠার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং এলার্জির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ট্যাবলেট সেবন বন্ধ করলে ওজন দ্রুত কমে যেতে পারে। এছাড়া, কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এমনকি, ফুসফুসে পানি জমার মতো গুরুতর জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

হেলফিট ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রথম ১৫ দিন প্রতিদিন সকালে ও রাতে একটি করে ট্যাবলেট গ্রহণ করা জরুরি। এরপর ধীরে ধীরে সেবনের মাত্রা কমিয়ে প্রতিদিন একবার নিতে হবে। কয়েকদিন এক বেলা সেবনের পর, প্রয়োজনে এক-দুই দিন পরপর একটি করে গ্রহণ করা যেতে পারে।

এই নিয়ম মেনে চললে, সাধারণত ৪৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত এই ট্যাবলেট সেবন করা সম্ভব। প্রতিবার ট্যাবলেট গ্রহণের আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত।

হেলফিট ট্যাবলেট এর দাম কত?

হেলফিট ট্যাবলেট ৩০টি সম্বলিত প্যাকের মূল্য ৩৬০ টাকা মাত্র। বিভিন্ন ফার্মেসিতে বা অনলাইন স্টোরে এটি সহজেই পাওয়া যায়।

সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা

হেলফিট ট্যাবলেট ব্যবহারের আগে কিছু সতর্কতা অনুসরণ করা উচিত:

  • প্রতিদিন ২টির বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।
  • খাবার খাওয়ার পরই গ্রহণ করতে হবে।
  • গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য নিষিদ্ধ।
  • শিশুদের জন্য এটি অনুপযোগী।

উপসংহার

হেলফিট ট্যাবলেট ওজন বৃদ্ধি ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ এর দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে। এজন্য হেলফিট ট্যাবলেট এর কাজ কি লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

Similar Posts

10 Comments

  1. হেলো সুইট এর বিস্তারিত পড়ে যা বুঝতে পারলাম তা হলো:-
    উপকারের থেকে উপকারিতা বেশি।।
    আমার মতে এই হেলফিট না খাওয়াটা উত্তম,

  2. আচ্ছা আমার বয়েস ১৮ এখন আমি প্রতিদিন কয়টা করে খাব

    1. ১৮ বছর বয়সে এই সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা উচিত। শরীরে ঘাটতি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

  3. আমার বয়স ২১ আমি এইটা কিবাবে খেতে পারি, আর আমি অনেক টাই ছিকন

    1. ২১ বছর বয়সে সাধারণত হেলফিট খাওয়া যায়। তবে নিয়মিত নেওয়ার আগে সঠিক ডোজ ও প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

  4. হেলফিট ট্যাবলেট এ কি স্টেরয়েড জাতীয় কিছু মিশ্রিত থাকে, এটা সেবন করা চলাকালীন দীর্ঘ তিন মাস প্রতিদিন সহবাস করে ও গর্ভধারণ সম্ভব হয় নি , এটা কি হেলফিট এর কারণে

    1. হেলফিট একটি ভিটামিন–মিনারেল সাপ্লিমেন্ট, এটি গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করে না। দীর্ঘদিনেও গর্ভধারণ না হলে সেটার অন্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply to Al Amin Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *