খুসখুসে বিরক্তিকর কাশির ঔষধ [খাওয়ার নিয়ম ও দাম]
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশির ঔষধ: খুসখুসে শুকনো কাশি খুবই বিরক্তিকর ও অস্বস্তিকর একটি সমস্যা, যা শুরু হলে সহজে থামতে চায় না। যদিও এটি বড় কোনো রোগ নয়, তবে উপসর্গের পেছনে কারণ জানা জরুরি—তা না হলে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব নয়। বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
খুসখুসে শুষ্ক কাশি হওয়ার কারণ
খুসখুসে কাশির পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণ, অ্যালার্জি, হাঁপানি, কিংবা উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধ এ সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া হৃদরোগ, মানসিক চাপ, ধূমপান, কম পানি পান করা, ধোঁয়া বা দূষণের মতো পরিবেশগত কারণে কাশি বাড়তে পারে। সাইনোসাইটিস বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ (যেমন নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস) এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ (যেমন সিওপিডি) উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সঠিক কারণ নির্ণয় করাই চিকিৎসার প্রথম ধাপ।
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশি দূর করার উপায়
খুসখুসে কাশি কমাতে ধূমপান ও ধুলোবালি এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান ও গরম পানিতে মধু-লেবু মিশিয়ে খাওয়া উপকারী। ঠান্ডা এড়াতে হালকা গরম পানিতে গোসল করুন। আদা-গরম পানি লবণ দিয়ে পান করলেও উপকার মেলে। কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং এলার্জি ও দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশির ঔষধ
ডেক্সোটিক্স ট্যাবলেট
খাওয়ার নিয়ম: ডেক্সোটিক্স ইনসেপ্টা ফার্মার ট্যাবলেট ও সিরাপ আকারে পাওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা দিনে ২ বার ভরা পেটে ট্যাবলেট সেবন করতে পারে। শিশুদের সিরাপ চিকিৎসকের পরামর্শে দিতে হবে। এটি সাধারণত নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন।
দাম: ডেক্সোটিক্স ট্যাবলেট প্রতি পিস এর দাম ১০ টাকা মাত্র।
Tussilon Capsule
খাওয়ার নিয়ম: প্রাপ্তবয়স্করা টুসিলন ক্যাপসুল দিনে তিনবার—সকাল, বিকেল ও রাতে একটি করে সেবন করতে পারেন। সাধারণত এতে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবে এটি শিশুদের না দেওয়াই ভালো।
দাম: টুসিলন ক্যাপসুল প্রতি পিস এর দাম ১০ টাকা মাত্র।
এমব্রোক্স ৭৫ এসআর ক্যাপসুল (স্কয়ার)
খাওয়ার নিয়ম: ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা প্রতিদিন একটি করে ক্যাপসুল সেবন করতে পারেন। ছোট শিশুদের জন্য রয়েছে উপযোগী সিরাপ। গর্ভাবস্থা ও স্তনদানের সময় এই ক্যাপসুল সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এ অবস্থায় সাধারণত এই ওষুধ গ্রহণ উপযোগী নয়।
দাম: এমব্রোক্স ৭৫ এসআর ক্যাপসুলের প্রতি পিসের মূল্য মাত্র ৫ টাকা ৫০ পয়সা, আর একটি পূর্ণ পাতার দাম মাত্র ৫৫ টাকা। সহজলভ্য এই ওষুধটি সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।
পিউরিসাল সিরাপ
খাওয়ার নিয়ম: ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের দিনে তিনবার এক চামচ করে ওষুধ সেবন করানো উচিত। ১২ বছরের বেশি বয়সী কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মাত্রা হচ্ছে দিনে তিনবার, এক থেকে দুই চামচ করে। তবে সঠিক মাত্রা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সর্বোত্তম। প্রয়োজনে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ছোট শিশুদেরও এটি সেবন করানো যেতে পারে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: অন্যান্য সিরাপের মতো এ ওষুধ সেবনের পরেও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যেমন—বমি, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি বা ব্যথা এবং ডায়রিয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাম: ইনসেপ্টা ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেড প্রস্ততকৃত এই কাশির সিরাপটি বাজারে ৫০ মিলি বোতল মাত্র ৩০ টাকা এবং ১০০ মিলি বোতল মাত্র ৪৫ টাকায় পেয়ে যাবেন।
এছাড়াও আরো কিছু খুসখুসে বিরক্তিকর কাশির ঔষধ হলো:
- Fenat Tablet
- Tofen Tablet
- Dexpoten Plus Syrup
- Tofen Tablet
FAQs
খুসখুসে বিরক্তিকর কাশির জন্য কোন ওষুধ ভালো?
ডেক্সট্রোমিথোরফানযুক্ত কাশি সিরাপ শুষ্ক কাশিতে উপকারী হতে পারে।
শুষ্ক কাশি কতদিন হলে ওষুধ খেতে হবে?
কাশি ৩–৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলে ওষুধ বা চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
কাশির সিরাপ খেলে কি ঘুম পায়?
কিছু সিরাপে অ্যান্টিহিস্টামিন থাকলে ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে।
বাচ্চাদের জন্য কোন কাশির ওষুধ নিরাপদ?
শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে নির্দিষ্ট ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় কাশির ওষুধ খাওয়া যাবে কি?
গর্ভাবস্থায় ওষুধ নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
কাশি কমতে কতদিন সময় লাগে?
সাধারণ ভাইরাল কাশি ১–২ সপ্তাহের মধ্যে কমে যায়।
